বছর শেষে হিসাব মেলাতে বসে দেখা গেল মোট ফির ১৫-২০ শতাংশই বকেয়া — এই চিত্র বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেই পরিচিত। মজার ব্যাপার হলো, অধিকাংশ বকেয়ার কারণ অভিভাবকের অনিচ্ছা নয় — ভুলে যাওয়া, কত বাকি তা না জানা, আর টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা। তিনটি কারণেরই সমাধান আছে।
১. বকেয়ার স্বচ্ছ চিত্র — অফিস ও অভিভাবক দুই পক্ষেই
প্রথম সমস্যা: অফিস নিজেই জানে না ঠিক কত বকেয়া, কার কাছে। রেজিস্টার ঘেঁটে হিসাব বের করতে করতেই মাস পার। ডিজিটাল ফি ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর লেজার স্বয়ংক্রিয় — কোন মাসের বেতন বাকি, জরিমানা কত, সব রিয়েল-টাইমে। অভিভাবকও অ্যাপে একই তথ্য দেখেন। "জানতাম না" — এই অজুহাত আর চলে না।
২. স্বয়ংক্রিয় রিমাইন্ডার — মানুষের বদলে সিস্টেম তাগাদা দিক
ফোন করে ফি চাওয়া অস্বস্তিকর, সময়সাপেক্ষ, আর প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। বরং নিয়ম সেট করুন: নির্ধারিত তারিখের তিন দিন আগে একটি SMS, তারিখ পার হলে আরেকটি। বার্তা যায় সিস্টেম থেকে — নম্র, ধারাবাহিক, কেউ বাদ পড়ে না। অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু নিয়মিত রিমাইন্ডারেই বকেয়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে।
৩. পেমেন্ট সহজ করুন — বিকাশ/নগদে ঘরে বসেই
কর্মজীবী অভিভাবকের জন্য অফিস সময়ে কাউন্টারে আসা কঠিন। অনলাইন পেমেন্ট চালু করলে রাত দশটাতেও ফি জমা হয়, রসিদ পৌঁছে যায় অ্যাপে। যত সহজ পেমেন্ট, তত দ্রুত আদায়।
ক্যালেন্ডার ভিউ: আদায়ের ছন্দ ধরুন
কোন সপ্তাহে আদায় বেশি, কোন মাসে ভাটা — ক্যালেন্ডার ভিউতে ধরা পড়ে আদায়ের ধরন। পরীক্ষার ফির সঙ্গে মাসিক বেতনের তারিখ মিলে গেলে চাপ পড়ে — এমন তথ্য দেখেই সূচি সাজানো যায়। সিদ্ধান্ত তখন অনুমানে নয়, তথ্যে।
তিনটি কৌশল একসাথে প্রয়োগ করুন — ছয় মাসের মধ্যে বকেয়ার গ্রাফ নিচের দিকে নামতে দেখবেন।